28.7 C
Dhaka
Tuesday, June 23, 2026

Online oder Offline Wo spielt man besser

Online oder Offline Wo spielt man besser Die...

The Evolution of Casino Loyalty Programs

Casino loyalty programs have transformed considerably over...

The Impact of Artificial Intelligence on Casino Operations

1хбет instant payout casinos apex casino официальный сайт apex casino ап...

“বাবা”একটি নিরাপদ আশ্রয়ের নাম

সখীপুর“বাবা”একটি নিরাপদ আশ্রয়ের নাম

12745670_968974246516973_1342600512891105851_n

আলীম মাহমুদ জুনিয়র :

“বাবা”একটি নিরাপদ আশ্রয়ের নাম । একটি বটবৃক্ষ, একটি আবেগ, একটি ভরসা। নিদাঘ সূর্যের তলে সন্তানের অমল-শীতল ছায়া তিনি বাবা। “পৃথিবীতে অনেক খারাপ মানুষ থাকতে পারে কিন্তু একটাও খারাপ বাবা নেই” অমর কথাশিল্পী হুমাযূন আহমেদের এই কথা থেকেই বুঝা যায় বাবা কি এবং বাবা কেন। যার পায়ে পা রেখে প্রথম পা ফেলা, যাঁর শক্তিতে পাওয়া নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রত্যয়, সেই বাবাকে ‘বাবা দিবস’র শ্রদ্ধাঞ্জলি ও ভালোবাসা।
রোববার (১৯ জুন) বাবা দিবস। প্রতি বছরের জুন মাসের তৃতীয় রবিবার পালিত হয় ‘বাবা দিবস’। এবছর ২১ জুন তাই এই দিবসটি পালিত হচ্ছে। বছরের এই একটি দিনকে প্রিয় সন্তানরা আলাদা করে বেছে নিয়েছেন বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য। সারা বিশ্বের সন্তানরা বাবাকে ভালোবেসে পালন করেন এই দিবস। কিন্তু কী এই দিবস, কী এর উৎস? তাছাড়া, ‘বাবা’ শব্দটা পৃথিবীর অন্যত্র কীভাবে উচ্চারিত হয়? অন্যদেশের শিশুরাও কী বাবাকে বাবা  বলেই ডাকে?
এনসাইক্লোপেডিয়া জানাচ্ছে, ‘বাবা দিবস’ পালন শুরু হয় গত শতাব্দীর প্রথমদিকে। আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি কতটা দ্বায়িত্বশীল- এটা বোঝানোর জন্যই এই দিবসের পালনের শুরু। পৃথিবীর সব বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু। ধারণা করা হয়, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই প্রথম ‘বাবা দিবস’ পালিত হয়। আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় প্রথম এই দিনটি পালিত হয়। আবার সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক ভদ্রমহিলার মাথাতেও বাবা দিবসের আইডিয়া আসে। যদিও তিনি ১৯০৮ এর ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না। ডড এই আইডিয়াটা পান এক গির্জায় পুরোহিতের বক্তব্য থেকে, সেই পুরোহিত আবার মা’কে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন। তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড আবার তার বাবাকে খুব ভালবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর, অর্থ্যাৎ ১৯১০ সালের ১৯ জুন থেকে ‘বাবা দিবস’ পালন করা শুরু করেন।download15
আজ যেমন বাবা দিবস নিয়ে বিভিন্ন আয়োজন হচ্ছে প্রথমদিকে কিন্তু এতোটা ছিলো না। ‘বাবা দিবস’ বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো! আসলে ‘মা দিবস’ নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাতো, বাবা দিবসে মোটেও তেমনটা দেখাতো না, বরং ‘বাবা দিবস’ এর বিষয়টি তাদের কাছে বেশ হাস্যকরই ছিল । ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টায়, ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন  বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে জুন মাসেরতৃতীয় রবিবার ‘বাবা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।
জার্মান ভাষায় বাবা শব্দটি হচ্ছে “ফ্যাট্যা” আর ড্যানিশ ভাষায় “ফার”। আফ্রিকান ভাষায় ‘ভাদের’ হচ্ছেন বাবা! চীনে ভাষায় চীনারা আবার ‘বাবা’ কেটে ‘বা’ বানিয়ে নিয়েছে! ক্রী (কানাডিয়ান) ভাষায় বাবা হচ্ছেন ‘পাপা’ তেমনি ক্রোয়েশিয়ান এ ‘ওটেক’ ভাগ্যিশ! ক্রোয়েশিয়ায় জন্মাই নি! কারণ ওরা বাবাকে ‘ওটেক’ ওটেক বলে!  ব্রাজিলিয়ান পর্তুগিজ ভাষায় বাবা ডাক হচ্ছে ‘পাই’। ডাচ ভাষায় পাপা, ভাডের আর পাপাই এই তিনটি হচ্ছে বাবা ডাক। সবচাইতে বেশী প্রতিশব্দ বোধহয় ইংরেজি ভাষাতেই! ইংরেজরা বাবাকে ডাকেন, ফাদার, ড্যাড, ড্যাডি, পপ, পপা বা পাপা! ফিলিপিনো ভাষাও কম যায় না, এই ভাষায় বাবা হচ্ছেন তাতেই, ইতেই, তেয় আর আমা। আমরা কিন্তু বাবাকে আদর করে হিব্রু ভাষাতেও ডাকি! হিব্রু ভাষায় বাবা হচ্ছে ’আব্বাহ্’ তার মানে আমরা যে ‘আব্বা’ বলে ডাকি তাইই কিন্তু!  হিন্দি ভাষার বাবা ডাকটি অবশ্য কমবেশী সকলেই জানি, ঠিক ঠিকই! হ্যাঁ, সেটা পিতাজী! আবার ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় অর্থাৎ সেই ‘বাহাসা ইন্দোনেশিয়া’য় যদি বাবা ডাকি তাহলে সেটা হবে- বাপা কিংবা আইয়্যাহ! জাপানিরা তাদের ভাষায় বাবাকে ডাকেন- ওতোসান, পাপা। পুর্ব আফ্রিকায় অবশ্য বাবাকে ‘বাবা’ বলেই ডাকা হয়! মজার, তাই না! হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় পাপা ছাড়াও বাবা শব্দের অনেকগুলো প্রতিশব্দ আছে, যেমন- আপা, আপু, এদেসাপা। তো এমন আরো অসংখ্য ভাষাই রয়েছে পৃথিবীতে যার শব্দগুলো আরো অনেক মজার! ইংরেজিতে ফাদার বা ড্যাড, জার্মানিতে ফ্যাটা, বাংলায় বাবা কিংবা ভারতীয়দের ভাষায় পিতাজি- যে নামেই ডাকুন না কেন পিতার প্রতি সন্তানের ভালবাসা একই প্রকাশ পায়।
‘কাটে না সময় যখন আর কিছুতে/বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না/জানলার গ্রিলটাতে ঠেকাই মাথা/মনে হয় বাবার মতো কেউ বলে না/আয় খুকু আয়, আয় খুকু আয়।’ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদারের গাওয়া এই গানটি সন্তানদের এক অসীম নস্টালজিয়ায় ডুবিয়ে দেয়। তাইতো প্রতিটি সন্তান তাদের বাবার প্রতি বিশেষ ভালোবাসার জন্যই বেছে নিয়েছে এ দিনটিকে। এনসাইক্লোপেডিয়া জানাচ্ছে, জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বের প্রায় ৭৪টি দেশে বাবা দিবস উদযাপিত হয়। তৃতীয় রোববার হিসেবে এ বছর ১৯ জুন উদযাপিত হচ্ছে বাবা দিবস। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জানানোর জন্যই এই দিবস। আমাদের দেশে বাবা দিবসের ধারণা খুব পুরানো না হলেও এখন অন্যান্য দিবসের সাথে পালন করা হয়। যদিও বাবার প্রতি সন্তানের সে চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিনই ঘটে। তার পরও পৃথিবীর মানুষ বছরের একটা দিনকে বাবার জন্য রেখে দিতে চায়। যেমনটা মায়ের জন্য করেছে। বাবা-মাকে ভালোবাসার বিশেষ কোন দিবস নেই; নেই কোন বিশেষক্ষণ। প্রতিটি দিনই ভালোবাসা দিবস। প্রতিটি দিনই বাবাকে ভালোবাসার দিবস। বিশ্ব বাবা দিবসে বিশ্বের প্রতিটি বাবার প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

-লেখক : আলীম মাহমুদ জুনিয়র। প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি মুজিব কলেজ ও নির্বাহী সম্পাদক, “সখীপুর বার্তা”।

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles