31.6 C
Dhaka
Friday, June 19, 2026

Class 777 Casino Mobile App: Your Pocket Gaming Hub

The digital landscape of online gaming has...

Vpower Casino Welcome Bonus: Your Gateway to Exciting Play

Embarking on a new online casino adventure...

Казино Топ: Лучшие Онлайн-Казино 2024

Казино Топ: Лучшие Онлайн-Казино 2024 Выбор надежного казино Рейтинг...

বিশ্ব কি সুচিকে চিনতে ভুল করেছে?

Uncategorizedবিশ্ব কি সুচিকে চিনতে ভুল করেছে?

২০০৩ সালে যখন অং সান সুচির রাজনৈতিক দল মিয়ানমারে ক্ষমতায় এলো, তখন সুচিকে ভাবা হতো একজন রাজনৈতিক আদর্শের কান্ডারি, যিনি ন্যায়ের ব্যাপারে আপসহীন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। নিজের জীবন হুমকির মুখে রেখে তিনি প্রায় একাই সামরিক জান্তার স্বৈরশাসনের কবল থেকে গণতন্ত্রের পথে টেনে এনেছেন মিয়ানমারকে। তার গ্রহণযোগ্যতা এত বেশি সার্বজনীন হয়ে দাঁড়ায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন জনসম্মুখে তাকে শ্রদ্ধায় আলিঙ্গনাবদ্ধ করেন। সিনেটের বড় অংশের নেতা মিচ ম্যাকনেল তাকে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করেন। তবে সময়ের পরিক্রমায় শান্তিতে নোবেলজয়ী এই নেত্রী এখন ত্রাসের প্রতিভূ হয়ে উঠেছেন। বর্তমান বিশ্বের নিন্দিত রাজনৈতিক নেতাদের কাতারে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। মিয়ানমারের রাখাইনে সঙ্ঘটিত জাতি নিধনে সে দেশের সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, নিপীড়নের পক্ষে কথা বলে নিজেকে প্রমাণ করেছেন একজন নির্দয়, নৃশংস মানুষ হিসেবে। যদিও সুচির এই প্রশংসার সিংহাসন থেকে নিন্দার আঁস্তাকুড়ে পতিত হবার প্রক্রিয়াটি একটি অভাবনীয় ঘটনা, তবে এমনটি অপ্রচলিত কিছু না। বিশ্ব এর আগেও প্রতিশ্রুতিশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অভাবিত অবনমন দেখেছে। সংকটাপন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে উত্তরণের দ্রুত উপায় হিসেবে অনেক সময় জনপ্রিয় কিংবা ত্যাগী নেতাদেরকে ক্ষমতার আসনে আসীন করা হয় এই আশায় যে, তারা ভোজবাজির মতো সবকিছু পাল্টে দেবেন। চারদিকে শুধু ধন্য ধন্য রব তুলে ভুলে যাওয়া কিংবা উপেক্ষা করা হয় তাদের মানবিক সীমাবদ্ধতা। সবাই যেন একটা অলৌকিক সমাধানের আশায় পথ চেয়ে থাকে। আদর্শ ভেবে বসা এইসব নেতা যে ভুলত্রুটির ঊর্র্ধ্বে নন, এটা পরে টের পেতে হয় মাশুল গুনে গুনে। কারণ, একক আধিপত্যের ক্ষমতা পেয়ে ওইসব নেতার অনেকেই হাঁটেন ক্ষমতা কুক্ষিগত করার ভুল পথে। হয়ে পড়েন আদর্শচ্যুত।
সতর্ক সংকেত
রাজনৈতিক নেতাদের আচরণ কিভাবে বিদেশি নীতিকে প্রভাবিত করে তার একটি তাৎপর্যবহ বিষয় নিয়ে বহুদিন গবেষণা করছেন বিশ্বখ্যাত কোলগেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল লুপটন। তিনি বলেন, আমাদের বেশির ভাগই হয়তো রাজনৈতিক নেতাদের অতিরিক্ত ভক্তি দেখিয়ে দেবতার আসন দিই, নয়তো তাদেরকে ঘৃণা করে দানব ভেবে বসি। এর পেছনে কাজ করে একটি জটিল মনস্তত্ত্ব। রাজনৈতিক মনোবিজ্ঞানে স্বীকৃতিমূলক পক্ষপাত নামে একটি ধারা আছে। এটি অনেকটা এরকম যে, ধরুন আপনি কারো সম্বন্ধে ধারণা পোষণ করছেন- সে ভালো নাকি মন্দ। যদি আপনি তাকে ভালো মনে করেন তবে তার কার্যকলাপের ভালো দিকগুলোতে আপনার দৃষ্টি আকর্ষিত হবে। যদি আপনি তাকে খারাপ মনে করেন, তবে তার কার্যকলাপের খারাপ দিকগুলোতে আপনার দৃষ্টি আকর্ষিত হবে। মন আপনাকে আপনি যা খুঁজতে চাইছেন, তাই খুঁজে এনে দেবে। ঠিক এভাবেই সুচিকে সবাই গ্রহণযোগ্য ভেবে নেয়ার ফলে, তার গ্রহণযোগ্য কাজগুলোর প্রতি আমাদের দৃষ্টি আবদ্ধ থেকেছে। তার অগ্রহণযোগ্য কাজগুলোতে দৃষ্টি যায় নি। ২০১৩ সালে বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে কেন রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ বেড়ে চলেছে- এই প্রশ্ন সুচিকে করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, কারণ একসময় মুসলমানরাও মিয়ানমারের বৌদ্ধদের সঙ্গে বিদ্বেষমূলক আচরণ করতো! বিদ্বেষকে প্রশ্রয় দেয়া সুচির ভেতরে যে শান্তিকামী সুচির সমাধি ঘটেছে- তখনই তা আমাদের টের পেয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা তা পাইনি, কারণ আমরা সুচিকে শান্তির দূতের চিরস্থায়ী তকমা এঁটে দিয়েছিলাম। মানুষের মনস্তত্ত্বের ওপর ‘স্বীকৃতিমূলক পক্ষপাত’ এর প্রভাব এতটাই বেশি যে, অনেক সময় আমরা যা ভাবতে চাইনা, এমনকিছু সামনে এলে তা আমাদের মন অবচেতনভাবে উপেক্ষা করে যায়। এই ব্যাপারটা এতো অবচেতনভাবে হয় যে, আমরা নিজেরাও টের পাইনা যে, আমরা আসলে পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বহন করছি। স্বীকৃতিমূলক পক্ষপাতের কারণে আমরা ভেবে বসি যে, একটি দেশের রাজনৈতিক চরিত্র সেদেশের নেতার চরিত্রের অনুরূপ হবে। বাস্তবে কিন্তু হয় তার উল্টোটা। দেখা যায় নেতার চরিত্র দেশের রাজনৈতিক চরিত্রে প্রভাবিত হয়ে পড়ে।
শান্তির ধারক ভেবে বসা শাসকদের স্বৈরাচারী শাসকে রূপান্তরিত হবার এমন অজস্র উদাহরণ আছে। একসময় আফগানিস্তানের হামিদ কারজাইকেও শান্তির আলোকবর্তিকা ভাবা হয়েছিল। তালেবান পরবর্তী গণতন্ত্রের আদর্শ বাহক হিসেবেই তাকে ভেবেছিল যুক্তরাষ্টসহ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেকে কেবল একজন ক্ষমতালোভী ও অদূরদর্শী নেতা হিসেবে প্রমাণ করেন। রোয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামি যখন ২০০৪ সালের গণহত্যা পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের সহায়তায় ক্ষমতায় আসেন, তাকেও ভাবা হয়েছিল একজন শান্তির দূত। তিনিও নিজেকে ব্যর্থ প্রমাণ করেন। সুদানে ওমর হাসান আল বশীরকে উৎখাত করা বিদ্রোহী বাহিনীকেও ভাবা হয়েছিল শান্তির সমাধান হিসেবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসীন হয়ে তারা দেশটিকে গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত করে। জিম্বাবুয়ের রবার্ট মুগাবেকে একসময় ত্রাণকর্তা ভাবা হয়েছিল। তিনি ধীরে ধীরে স্বৈরশাসকে রূপ নেন। অনুপযুক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ত্রাণকর্তা ভেবে ভুল করার এমন নজির ইতিহাসে অনেক।
স্বৈরশাসকের বৈশিষ্ট্য
সুচি হয়তোবা এখনই মুগাবে কিংবা কাগামির মতো ব্যর্থ নন, কিন্তু ক্ষমতার ২০ মাস অতিক্রম করার পর তার কর্মকাণ্ডে এটা সপষ্ট প্রতীয়মান যে, তিনি ব্যর্থতার পথেই হাঁটছেন। ক্ষমতা পাবার পরপরই তিনি সমাজকর্মী এবং সুশীল সমাজের একটা অংশ- যারা তাকে ক্ষমতায় যেতে সহায়তা করেছে, তাদেরকে তিনি রাজনৈতিক পটভূমি থেকে সরিয়ে দেন। তিনি শুধু তার কাছের লোকদের কথা শোনেন। বিপক্ষ মতধারীদের তিনি অকেজো করে দেন। সুচিকে একজন স্বৈরাচারী বলে অভিহিত করেছেন মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি ‘৮৮ জেনারেশন’ গ্রুপের নেতা ইউ ইয়ান মায় থেইন। যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুচির তুমুল প্রশংসা হচ্ছিল, সে সময়ে মিয়ানমারের মানুষ, বিশেষ করে রোহিঙ্গা মুসলমানরা এক অন্য দৃশ্য দেখে। তারা দেখতে পায় সুচির ক্ষমতা কুক্ষিগত করার নিমিত্তে শুরু করা নিপীড়নের বৃদ্ধি। মিয়ানমারের খ্যাতিমান সুশীল সমাজ দলের নেতা কোয়াই থু বলেন, যদিও সুচি ও তার ক্ষমতাশীল সরকার নিজেদের গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ ধারক মনে করে, আসলে তারা শুধু ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টায় রত। তাদের মূল উদ্দেশ্য গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা নয়। সুচির প্রতিষ্ঠিত আইন মতে, যারাই তার রাজনৈতিক বিরোধিতা করবে, তারাই দেশের শত্রু। তাদেরকেই জেলে পাঠানো হয়। অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লয়ি ইন্সটিটিউটের বিশ্লেষক অ্যারন কনেলি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু বাদ দিলেও সুচিকে একজন উদার রাজনীতিবিদ বলা যায় না।
এসব ঘটনা থেকে বিশ্ব নেতৃত্বের অনেক কিছু শেখার আছে। শুধু সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার তকমা লাগানো একজনের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিলেই যে সবকিছুর সমাধান হয়ে যায়- বাস্তবতা এমনটি বলে না। একটা দেশের রাজনৈতিক ছাঁচের আদলেই সে দেশের নেতারা গড়ে ওঠেন। সুতরাং সমস্যার সমাধান কেবল নেতৃত্ব বদলে নয়, তা জড়িয়ে আছে বহমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে। যদিও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন একটি সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, তবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হিসেবে এটিই বাঞ্ছনীয়। রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে ক্ষমতায় আসীন মিয়ানমারের সুচি কিংবা জিম্বাবুয়ের মুগাবে অথবা রোয়ান্ডার কাগামিরা যে খুব ফলপ্রসূ বার্তা বয়ে নিয়ে আসছেন- এমনটা কিন্তু নয়!
(নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত নিবন্ধের অনুবাদ করেছেন নাজমুস সাদাত পারভেজ)

[মানবজমিন থেকে নেয়া]

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles