24 C
Dhaka
Tuesday, January 13, 2026

সখীপুরে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে চার প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব সংবাদদাতা: সখীপুরে ভোক্তা অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে...

সখীপুরে ৮ মাসে ২৪০ জনকে সর্প দংশন, হাসপাতালে নেই অ্যান্টিভেনম

সাইফুল ইসলাম সানি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৮ মাসে...

সখীপুরে প্রবাসীর বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপা‌টের ঘটনায় থানায় অ‌ভি‌যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের সখীপুরে ইতালী প্রবাসীর বাড়িঘর...

শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ

জাতীয়শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ

অনলাইন ডেস্কঃ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ। এই ৭৫ বছরের মধ্যে একটানা চার দশক ধরে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। ১৯৮১ সালে চরম দুঃসময়ে দায়িত্ব নিয়ে দলকে এক মজবুত ভিত্তির ওপরই দাঁড় করাননি, দীর্ঘ ২১ বছরের সংগ্রাম শেষে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসিন করেন শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের পর থেকে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশকে আজ সারা বিশ্বের সামনে রোল মডেলে পরিণত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যারা একদিন তলাবিহীন ঝুড়ি বলে এই দেশকে অবজ্ঞা করত তারাও আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভূয়সী প্রশংসা করছেন। সততা মেধা ও দক্ষতা দিয়ে শেখ হাসিনা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্ব নেতাদের কাতারে।
শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে এরই মধ্যে নানা আয়োজন শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে নানা আয়োজন করছে আওয়ামী লীগ ও মক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষরা। শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় সারা দেশে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত ও মন্দির, গির্জা এবং প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। এসব কর্মসূচি পালনের জন্য দলের সব সহযোগী সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংস্থাগুলোর সব স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চার দশক : বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান মধুমতি নদীবিধৌত গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় কিশোর বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার রাজনীতিতে পদচারণা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেত্রী হিসাবে তিনি আইয়ুব-বিরোধী আন্দোলন এবং ৬ দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়ার সাথে শেখ হাসিনা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৭১ সালের ২৭ জুলাই গৃহবন্দি থাকাবস্থায় শেখ হাসিনার প্রথম সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় জন্মগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে তিনি মুক্ত হন। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর তার কন্যাসন্তান সায়মা ওয়াজেদ পুতুল জন্ম লাভ করেন। এরপর ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকের নির্মম বুলেটে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। এ সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। আর এই ঘটনার মধ্যদিয়েই চরম বাক নেয় শেখ হাসিনার জীবনের গতি পথে।
১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল অধিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতির এক ক্রান্তিলগ্নে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। যে সময় ঘরে বাহিরে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যাচ্ছিল আওয়ামী লীগ, ঠিক সেই সময় দলের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর ধরে সামরিক জান্তা, স্বৈরশাসন ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে চলে একটানা অকুতোভয় সংগ্রাম। জেল-জুলম, অত্যাচার কোনো কিছুই তাকে টলাতে পারেনি এক বিন্দু। দীর্ঘ ২১ বছরের লড়াই সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার সরকারের আমলেই ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি। সম্পাদিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি। বাংলাদেশ অর্জন করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা। জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। মুদ্রাস্ফীতি নেমে আসে ১ দশমিক ৫৯ শতাংশে। দারিদ্র্য হ্রাস পায়। খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ক্রীড়াসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনার প্রথমবারের (১৯৯৬-২০০১) শাসনকাল চিহ্নিত হয় ’৭৫-পরবর্তী সময়ের স্বর্ণযুগ হিসেবে।
২০০১ সালের ষড়যন্ত্র ও কারচুপির নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত অশুভ জোট ক্ষমতা গ্রহণ করে। ওই সময় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তদানীন্তন বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকারি মদদে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে চালানো হয় পরিকল্পিত নারকীয় গ্রেনেড হামলা; যার প্রধান লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। বাংলাদেশ পরিণত হয় এক মৃত্যু উপত্যকায়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মদদে সারা দেশে ধর্মীয় জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপক উত্থান ঘটে। আর তাদের এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান অকুতোভয় শেখ হাসিনা। বাংলার আপামর মানুষ তার আহ্বানে রাজপথে নেমে আসে। শুরু হয় গণ-আন্দোলন। বাতিল হয় পাতানো নির্বাচন। প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন ইয়াজউদ্দিন। ঘোষিত হয় জরুরি অবস্থা। ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত হয় নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ১/১১-এর পর শুরু হয় নতুন ষড়যন্ত্র। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য হাজির করা হয় ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’। সেই সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই নিজ বাসভবন সুধা সদন থেকে শেখ হাসিনাকে দানবীয় কায়দায় গ্রেপ্তার করা হয়। আওয়াজ ওঠে শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন নয়। বদলে যায় দৃশ্যপট। জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অর্জিত হয় ঐতিহাসিক বিজয়। এককভাবে আওয়ামী লীগই লাভ করে তিন-চতুর্থাংশের বেশি আসন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। গঠিত হয় মহাজোট সরকার। শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অমিত সম্ভবানার শক্তিশালী ভীত রচিত হওয়ায় জনপ্রিয়তার অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যান শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। এরপর ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার আজ সফলতার সাথে টানা তৃতীয় মেয়াদে ও চতুর্থবারের মতো দেশ পরিচালনা করছে।
বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে সব প্রতিবন্ধকতা সমস্যা-সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আজ স্বপ্লোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে। ২০০৯ থেকে বিগত এক দশকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের বিনির্মাণের অভিযাত্রায় যুক্ত হয়েছে অজস্র সাফল্য-স্মারক। অন্যদিকে একটানা চার দশক ধরে নেতৃত্ব দিয়ে উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে আজ এক শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। ৭৫ বছর বয়সি শেখ হাসিনা টানা চার দশক ধরে নেতৃত্বে দিয়ে আসছেন এই দলের। যদিও ঘরে বাহিরে বহু প্রতিকূল পরিস্থিতি ও বন্ধুর পথ অতিক্রম করেই শেখ হাসিনা দলে তার একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন নেতৃত্বগুণে। দলকে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। দেশকে এক মজবুত অর্থনীতি ও দৃশ্যমান উন্নয়নের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশকে স্বপ্লোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত করেছেন।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে দেশ পরিচালনা : ’৭৫-পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনাই প্রথম কোনো নেতা যিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি রূপকল্প ২০২১, রূপকল্প ২০৪১ ও ডেলটাপ্ল্যান ২১০০ মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে দেশ পরিচালনা করছেন। অতীতে বাংলাদেশের কোনো নেতা বা সরকারপ্রধানকে এমন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা করতে দেখা যায়নি। যেটা ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ শোনা গেলেও অবকাঠামো খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন ও সারা বিশ্বের কাছে আজ দৃষ্টান্ত। শুধু তাই নয়, পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প নিজ অর্থায়নে করার মধ্যদিয়ে নিজেদের সক্ষমতার জানান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল ও উড়াল সড়কের মতো আধুনিক ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়াসের মধ্যদিয়েও উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের বার্তা বিশ্ববাসীর সামনে দিতে সক্ষম হয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।
দেশ ও জাতির জন্য অর্জন : আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশ ও জাতির জন্য বহু অর্জন রয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন করা, সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি ও সমুদ্রবক্ষে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়, সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত করা, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত, রিজার্ভ মাত্র ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে রিজার্ভ ৪৮ দশমিক ০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত, দারিদ্র্যের হার হ্রাস, মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭৩ বছরে উন্নীত, ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে উন্নীত ও প্রায় শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ-সুবিধার আওতায় আনা, যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ৬০ শতাংশে উন্নীত করা, বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করা ও স্বীকৃতি দান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, নারী নীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ফোর-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে কালোত্তীর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
করোনা মহামারিতে নেওয়া পদক্ষেপের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত : বৈশি^ক মহামারি করোনার সময়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ জাতিসংঘ (টঘ), বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডঊঋ), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ), যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বসসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা থেকে শুরু করে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তিনি নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং করোনা মহামারির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। একই সাথে দরিদ্র মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতার পাশাপাশি জীবিকা ও অর্থনীতি বাঁচাতে নিয়েছেন কার্যকরী পদক্ষেপ। দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরে রাখতে কৃষি ও শিল্পসহ অর্থনৈতিক খাতগুলোয় সময়োপযোগী ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৪৬০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং তা বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত হয়। যার কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী অবস্থানে ছিল বলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। সবার জন্য বিনামূল্যে টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৪ কোটিও বেশি ভ্যাকসিন ডোজ সম্পন্ন হয়েছে। জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে তিনি বিশে^র সব মানুষের জন্য টিকা প্রাপ্তির সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) দারিদ্র্য দূরীকরণ, পৃথিবীর সুরক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সর্বজনীন আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের সঠিক পথে অগ্রসরের জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ প্রদান করে। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ক্রাউন জুয়েল’ বা ‘মুকুট মণি’ অভিধায় ভূষিত করা হয়েছে। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর অবদান আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এরই মধ্যে তিনি শান্তি, গণতন্ত্র, স্বাস্থ্য ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার, দারিদ্র্য বিমোচন, উন্নয়ন এবং দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ভূষিত হয়েছেন অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ পদক, পুরস্কার আর স্বীকৃতিতে। নিখাদ দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, দৃঢ় মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলি তাকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সাধারণ মানুষের কাছে তিনিই বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং বাঙালি জাতির সব আশা-ভরসার নিরাপদ আশ্রয়স্থল। ’৭৫ পরবর্তী বাঙালি জাতির যা কিছু মহৎ অর্জন, তা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই অর্জিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্মদিন আজ গোটা বাঙালি জাতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন।

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles