নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক অসহায় নারীকে মারধর করে তাঁর বসতভিটা উচ্ছেদ চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের দেবরাজ গ্রামে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ ওই গ্রামের দুই শতাধিক বাসিন্দা অংশ নেয়। স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী আব্দুল আলীমের হুমকি-ধামকিতে স্বামী পরিত্যক্তা আমেনা বেগমের (৪৭) পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও মানববন্ধনে দাবি করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা মিলছে না। ইউপি সদস্যের (মেম্বার) ডাকে প্রভাবশালী আব্দুল আলীম সালিশী বৈঠকে বসতেও রাজি হচ্ছেন না।
মানববন্ধনের বক্তব্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দেবরাজ গ্রামে মাত্র তিন শতাংশ জমির উপর স্বামী পরিত্যক্তা আমেনা বেগমের বাড়ি। জমিটুকু বন বিভাগের কচুয়া বিটের অধীনে। অসহায় নারীর বাড়ি হওয়ায় ১৯৯২ সালে বন বিভাগ বাড়িটি উচ্ছেদ না করেই আশেপাশে প্লট আকারে গাছ রোপণ করে। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী প্রতিবেশী আব্দুল আলীম বন বিভাগের ওই জমি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন বলে দাবি করছেন। জমি দখলে নিতে তিনি সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে ফেলেছেন এবং অসহায় নারী আমেনা বেগমকে জমি ছেড়ে দিতে চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় আমেনা বেগম ও তাঁর ছেলে আরিফকে (১৫) ব্যাপক মারধর করেন। জমি ছেড়ে না দিলে ছেলেকে মেরে ফেলা হবে বলেও নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল আলীম বলেন, ওই প্লটে আমি ইস্তোফা দলিল করে ৪১ শতাংশ জমি ক্রয় করেছি। সেই জমিতে আমেনা বেগম বাড়িঘর তৈরি করেছে। আমার সঙ্গে সে ও তার ছেলে খারাপ আচরণ করেছে। আমি কাউকে কোন মারধর করি নাই।
বড়চওনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এ ঘটনার মীমাংসার জন্য ইউপি সদস্য আব্দুল আজীজকে দায়িত্ব দিয়েছি।
এদিকে মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল আজীজ বলেন, অভিযুক্ত আব্দুল আলীমকে বারবার ডাকা হয়েছে। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোনো সালিশী বৈঠকে বসবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর ক্রয়কৃত জমি বুঝিয়ে দিতে অনুরোধ করেছেন।
বন বিভাগের কচুয়া বিট কর্মকর্তা রতন চন্দ্র দাস বলেন, বনের জমিতে বেড়া দেওয়ার সংবাদ পেয়ে ভেঙে দিয়ে আসছি। বনের জমি বেচা-কেনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।