31 C
Dhaka
Wednesday, July 24, 2024

সখীপুর পৌরসভার বাজেট ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার ২০২৪-২৫ অর্থ...

সখীপুর পৌরসভার প্রাক বাজেট ঘোষণা 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সখীপুর পৌরসভার প্রাক বাজেট ঘোষণা...

সখীপুরে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের সখীপুরে সর্বজনীন পেনশন স্কিম...

সখীপুরে রাস্তায় গ্যাস সিলিন্ডার, বোতল ভর্তি পেট্রোল! দেখেও যেন দেখার কেউ নেই!

সখীপুরসখীপুরে রাস্তায় গ্যাস সিলিন্ডার, বোতল ভর্তি পেট্রোল! দেখেও যেন দেখার কেউ নেই!

মো. আলীম মাহমুদ:

[১]সখীপুরে যত্রতত্র পেট্রোলিয়াম এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে সর্বত্র। সরকারি নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে এবং সরকার থেকে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই দোকানের সামনে এমনকি ফুটপাতেও সিলিন্ডার ফেলে রেখে ব্যবসায়ীরা এলপি গ্যাসের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বিঘেœ । যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার ফেলে রেখে এমন রমরমা ব্যবসার নজির দেশের অন্য কোথাও আছে বলে মনে হয় না। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সখীপুরের সচেতন মহল। কিন্তু দেখেও যেন দেখার কেউ নেই।
সখীপুরে ১টি পৌরসভা ও ০৯ টি ইউনিয়নে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। গ্যাসের আবাসিক সংযোগ ব্যবস্থা চালু না থাকায় দিন দিন এলপি গ্যাসের চাহিদা বেড়েই চলছে। চাহিদা মেটাতে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা সরকারি আইন ও নিয়মকে উপেক্ষা করে যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার ফেলে রেখে চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা ব্যবসা । ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, মুদি দোকান, হার্ডওয়্যার দোকান, ক্রোকারীজ, কসমেটিক্সের দোকান, তেল বিক্রির দোকান, ফ্যাক্সিলোডের দোকানসহ প্রধান প্রধান রাস্তার কাছে, ফুটপাতে, গ্রামের রাস্তার মোড়ে এমনকি ফার্মেসির দোকানেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। এলপি গ্যাস সিলিন্ডারগুলো দোকানের সামনে বা ভেতরে খোলামেলা অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সখীপুর উপজেলায় বিস্ফোরক অধিদপ্তর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও বিক্রির জন্য অনুমোদিত কোন পরিবেশক নেই। জেলা শহর টাঙ্গাইল থেকে প্রতিদিন গাড়ি এসে দোকানে দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে যায়। আর দোকানীরা সেই সিলিন্ডার খুচরা মূল্যে বিক্রি করে আসছে। এলপি গ্যাস প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নিলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা শুধু পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দোকানের ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। স্থানীয় সরকার থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিলে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির কোন বাধ্যবাধকতা নেই কিন্তু অগ্নিদুর্ঘটনার প্রতিরোধক, অগ্রিনির্বাপক ব্যবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে খুচরা বিক্রির জন্য ১০ টি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার রাখতে পারবে। ১০টির বেশি গ্যাস সিলিন্ডার রাখতে হলে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে তার বিপরীত, প্রায় প্রতিটি দোকানেই মজুদ রয়েছে দশের অধিক গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার।
সখীপুর বাজারের কয়েকজন গ্যাস সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির নিয়ম কানুন তারা জানেন না। কিভাবে বিস্ফোরক লাইসেন্স করতে হয় সেটাও জানেন না। ডিলারদের প্রলোভনে অধিক লাভের আশায় দোকানে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করেন। তাছাড়া ডিলারসীপ নিয়ে ব্যবসায় লাভ কম বলে ডিলার হতেও আগ্রহী নয়।
সখীপুরের সুধীজন ও সচেতনমহল মনে করেন, প্রশাসন ও সংশ্নিষ্টরা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা আইনের তোয়াক্কা না করেই দোকানের সামনে ও রাস্তায় গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রেখে যেভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তাতে যেকোন সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করার আগেই কর্তৃপক্ষের নজরদারী প্রয়োজন।।
দুর্ঘটনা আগাম বার্তা দিয়ে আসেনা, তাই আমরাও চাই কর্তৃপক্ষের নজরদারী, চাই এর সুষ্ঠু সমাধান। আমরা চাইনা একটু সাবধানতার অভাবে অকালে ঝরুক তাজা প্রাণ। আমরা চাই ব্যবসায়ীরা সচেতন হোন, সতর্ক হোন। নিজে বাঁচুন আপনাদের স্বজনদের বাঁচতে সহযোগিতা করুন। সামান্য কিছু লাভের আশায় নিজের জীবনের এত বড় ঝুঁকি কেন নিবেন?


[২]
রাস্তার উপর ড্রাম, তার উপর বড়-ছোট কয়েকটি পেট্রোল ভর্তি বোতল। এমন দৃশ্য চোখে পড়েনা সখীপুরে এমন কোন রাস্তা নেই। এমন কোন মানুষ নেই যার নজরে পড়েনি এ দৃশ্য। এটা আসলে কি? কেন এই ড্রাম কিংবা কেনইবা বোতলে পেট্রোল? এমন প্রশ্ন জাগেনি কারও মনে! না জাগেনি, কারণ আমরা খুব সহজেই বুঝে গেছি এখানে পেট্রোল পাওয়া যায়। কিন্তু কেন পাওয়া যায় কিংবা এটা কি এখানে পাওয়া যাওয়ার কথা এটা কি কখনও ভেবেছি? বিশ্বের কোন দেশে কি এমন নজির আছে, খোলা বাজারে, রাস্তায়, ফুটপাতে কিংবা যত্রতত্র দোকানে পেট্রোল বিক্রির? নিশ্চয়ই নেই। বাংলাদেশেও নেই। তবুও বিক্রি হচ্ছে দেদারছে।
সখীপুর উপজেলায় আড়াই লক্ষ মানুষের মোটরসাইকেল আছে প্রায় দেড় লক্ষ। এরা প্রত্যেকেই প্রায় এইসব দোকানের ক্রেতা। কেউ ইচ্ছে করে কেউ বিপদে পরে। প্রয়োজনের তুলনায় মোটরসাইকেল বেশি হওয়ায় এবং ফিলিং স্টেশনগুলো সখীপুরের কাছাকাছি না থাকায় এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা সরকারি নিয়ম-নীতি না মেনেই বা না জেনেই বেছে নিচ্ছে এই ব্যবসা। তাদের টার্গেট উঠতি বয়সী বাইকাররা। রাস্তার উপরে, ফুটপাতে ড্রাম ফেলে বোতলে ভরে পাড়ার মোড়ের অলিতে-গলিতে, প¦ার্শ রাস্তার পাড়ে কিংবা মেইন রোডেই চলছে এই রমরমা ব্যবসা। অথচ তাদের নেই কোন পেট্রোলিয়াম জাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রির লাইসেন্স। হাতেগুনা দুই একজনের অনুমোদন থাকলেও অনুমোদনহীন অসংখ্য। অগ্নি প্রজ্জ্বলনে সহায়তাকারী এমন দাহ্য পদার্থ খোলা জায়গায় এভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকলে বা বিক্রি করলে যেকোন সময় ঘটতে পারে এই সময়ের আলোচিত মহাতান্ডব ‘অগ্নিকান্ড’। আর সেই অগ্নিকান্ড মুহুর্তেই এই দাহ্য পদার্থের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো শহরে। পুরে যেতে পারে হাজারো তাজা প্রাণ, হাজারো তরতাজা স্বপ্ন। পুরে যেতে পারে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।


খোলা বাজারে কিংবা বোতলে পেট্রোলিয়াম জাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রিতে রয়েছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু কে মানছে কার কথা! একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই পেট্রোল বোমা একটি আতঙ্কের নাম। যে পেট্রোল বোমায় পুরে গেছে হাজারো মানুষ, খালি হয়েছে অনেক মায়ের কোল। পুরে গেছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। সেই আতঙ্ক থেকে বাঁচতেই সম্ভবত করা হয়েছিল এই আইন। কিন্তু সেই আইন কতটা কার্যকরী তা হয়তো প্রশাসনই ভালো জানেন। পেট্রোলতো বোতলে ভরেই বিক্রি হচ্ছে অহরহ। খোলা বাজারে কিংবা খোলা রাস্তায় পেট্রোলিয়াম জাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রেতাদের নেই কোন অনুমোদন, জানেন না কোন নিয়ম-কানুনও। তাদের কাছে নেই অগ্নিনির্বাপক ও অগ্নি প্রতিরোধক ব্যবস্থা বা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদন। তাদের বেশিরভাগের কাছেই রয়েছে পৌরসভা কিংবা স্থানীয় সরকারের মুদির কিংবা স্টেশনারী দোকানের ট্রেড লাইসেন্স। অথচ বিক্রি করছেন প্রেট্রালিয়াম জাতীয় দাহ্য পদার্থ। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদন থাকলেও থাকতে হবে অগ্নি নির্বাপক ও অগ্রি প্রতিরোধক ব্যবস্থা। বাস্তবে কী আসলে তা চোখে পড়ছে? না, নেই। রয়েছে কেবলমাত্র কয়েকটি দাহ্য পদার্থের ড্রাম আর বোতল ভর্তি করার সরঞ্জাম।
একবার ভাবুনতো, সখীপুরে প্রায় ৩০/৩৫ টি কিন্ডারগার্টেনসহ রয়েছে সরকারি প্রাইমারী স্কুল, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ। যে রাস্তা দিয়ে আপনার আমার কোমলমতি সন্তানেরা পাঠশালায় যায় সেই রাস্তায় যদি পাতা থাকে সিলিন্ডার ভর্তি বোমা, বোতল ভর্তি বোমা? তাহলে আপনি কতটা স্বস্তিতে? কতটা নিরাপদে? নিজের স্বাদের জীবন নিয়েও কতটা নিরাপদে? কিংবা ঐসকল ব্যবসায়ী, তারাইবা কতটা নিরাপদে? তাদের সন্তানরাও কি নিরাপদে?
এমন যখন অবস্থা তখন রাস্তায় কিংবা বাড়ির বাইরে জীবন কতটা নিরাপদ? এমন প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে জনমনে। প্রশ্ন জাগছে প্রশাসনের নজরদারীর উপরে। আমরা যারা সাধারণ এবং সচেতন নাগরিক তারা চাই বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে নজরদারীর মধ্যে আনা হোক। মানুষের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেয়া হোক লাইসেন্সবিহীন সেই সব পেট্রোলিয়াম জাতীয় দাহ্য পদার্থ কিংবা গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডারের দোকান। লাইসেন্সধারী, অগ্নি-নির্বাপক কিংবা অগ্নি-প্রতিরোধক ব্যবস্থা আছে এমন নিরাপদ স্থানেই হোক দাহ্য পদার্থ এবং গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, খোলা রাস্তায় কিংবা ফুটপাতে নয়। জীবন থাকুক নিরাপদে, জীবন রাখুন নিরাপদে, কারন নিরাপত্তাই সর্বাগ্রে।

-লেখক: প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি মুজিব কলেজ, সখীপুর, টাঙ্গাইল।

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles