31.3 C
Dhaka
Tuesday, June 23, 2026

Discover the top promotions at online casinos: Which offers should you seize this year?

Online casinos have transformed the gambling landscape,...

Complete Overview of the 21bit Casino Welcome Bonus

The 21bit Casino Welcome Bonus is a...

Success Stories at Rocketplay Casino Australia: Real Wins and Experiences

Australia's online gaming scene has gained immense...

সম্পাদকীয়, করোনাকালের অন্য রকম ঈদুল আজহা আনন্দ ও ত্যাগে শুদ্ধ হোক জীবন

জাতীয়সম্পাদকীয়, করোনাকালের অন্য রকম ঈদুল আজহা আনন্দ ও ত্যাগে শুদ্ধ হোক জীবন

ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে স্বজন আর বন্ধুদের মিলনমেলা, হৈ-হুল্লোড়, ঘুরে বেড়ানো। ঈদ মানে কোলাকুলি, করমর্দন। ঈদ মানে প্রতিবেশীদের নিয়ে খাওয়া দাওয়া, আড্ডা দেওয়া। নাড়ির টানে গ্রামে গিয়ে মা-বাবা, ভাই-বোনদের সঙ্গে একত্র হওয়া। নতুন জামাকাপড় পরা। কিন্তু এবার সেই অনাবিল আনন্দের আবহ নেই। খুশির জোয়ারও নেই। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাপন। এমন অবস্থায় দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। বাংলাদেশে ১লা আগস্ট শনিবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত অনেকেই চিরতরে বিদায় নিয়েছেন। মা-বাবা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, বন্ধু, প্রতিবেশীসহ প্রিয়জন হারানোর ব্যথা এখনো মুছে যায়নি। যাদের স্বজন হাসপাতালে রোগ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে তাদের জন্য নিশ্চয় এবারের ঈদ খুশি বয়ে আনতে পারেনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অধিকাংশ মানুষই ঘরবন্দি। স্বজনদের কাছ থেকে দূরে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে পালিত হচ্ছে ঈদ।

বেঁচে থাকলে ঈদ উদ্যাপনের অনেক সুযোগ পাওয়া যাবে। এবার ভিন্ন এক বাস্তবতায় ঈদ উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে। ঈদ উদ্যাপনের চেয়ে বেঁচে থাকার লড়াইটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ঈদের নামাজ আমাদের দেশে একটি বড় উৎসব। ছেলে, বুড়ো, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই দল বেঁধে ঈদের নামাজ পড়তে ঈদগাহে যায়। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময়, করমর্দন, কোলাকুলি করে। কিন্তু করোনার স্বাস্থ্যবিধি এবার সেটা হতে দিচ্ছে না। এবার উন্মুক্ত স্থানে জনসমাগম করা যাবে না। ঈদের নামাজ পড়তে হবে মসজিদে। মসজিদে মসজিদে সময় ভাগ করে একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই নামাজ আদায় করতে হবে।
আলেমরা বলছেন, ঘরে বসেও ঈদের নামাজ পড়া যাবে। সব ক্ষেত্রেই বিরত থাকতে হবে কোলাকুলি ও করমর্দন থেকে।

ঈদের দিনে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, প্রতিবেশীর বাড়িতে যাতায়াত ও খাওয়াদাওয়ার সেই রেওয়াজও পালিত হবে না এবার। নতুন জামাকাপড় কেনেনি অনেকেই। ঈদের মেলা নেই কোথাও। প্রতিবছর বিভিন্ন প্রকার মেলা বসে ঈদ ঘিরে।

ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনেকেই যায় বিনোদনকেন্দ্রে। এবার সেটাও বন্ধ। প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে নিজেকে মেলে ধরতে অনেকে ছুটে যায় পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু এবার দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোও বন্ধ রয়েছে। সেখানে যাওয়ারও উপায় নেই।

করোনাভাইরাসের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে কয়েকটি জেলা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবার বন্যা কবলিত হয়েছে অনেক জেলার মানুষ। এই অবস্থায় ঈদ তাদের জন্য বিষাদ হয়ে এসেছে। যা মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দঁাড়িয়েছে। সে কারণে ঈদ তাদের জন্য খুশির বার্তা বয়ে আনতে পারেনি। করোনার সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়, বন্যার ক্ষয়ক্ষতির কষ্টের মধ্যেই এবার তাদের ঈদ কাটবে।
তারপরও শান্তি, সৌহাদর্য আর আনন্দের বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। সব ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে মিলিত হওয়ার দিনে সবাইকে ঈদ মোবারক।
ঈদুল আজহায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ মহান আল্লাাহর উদ্দেশে নিজ নিজ সামথর্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করেন। মুসলমানদের এই ঐতিহ্য অনেক প্রাচীন। আল্লাাহ্ তাআলা হজরত ইব্রাহিম (আ.) কে নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি দিতে। সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর নবীর আনুগত্য পরীক্ষা করা। স্নেহের পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সবচেয়ে প্রিয়। স্নেহমমতায় ভরা জগৎ-সংসারে পিতার পক্ষে আপন পুত্রকে কোরবানি দেওয়া অসম্ভব এক অগ্নিপরীক্ষা। কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে হজরত ইব্রাহিম (আ.) বিনা দ্বিধায় নিজ পুত্রকে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়েই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। মহান আল্লাহর নির্দেশে তাঁর ছুরির নিচে প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর স্থলে কোরবানি হয়ে যায় একটি দুম্বা। প্রতীকী এই ঘটনার অন্তর্নিহিত বাণী স্রষ্টার প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্য ও ত্যাগ স্বীকার।
ঈদুল আজহার উদ্দেশ্য স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তু থাকা। পশু কোরবানি করা হয় প্রতীকী অর্থে। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা এই সব রিপুকেই কোরবানি দিতে হয়। হালাল অর্থে কেনা পশু কোরবানির মাধ্যমেই তা সম্পন্ন হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, কোরবানির এই মর্মবাণী আমাদের সব সময় স্মরণে থাকে না; বরং ত্যাগের সাধনার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে ভোগবিলাস, অপচয়। আধ্যাত্মিকতাকে ছাপিয়ে যায় বস্তুগত আনুষ্ঠানিকতা। কোরবানির মধ্যে যে উৎসর্গের মহিমা রয়েছে, তার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে ভোজনের উৎসব।
ঈদুল আজহায় কোরবানির মধ্য দিয়ে আল্লাহর প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্য প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক কিছু কর্তব্য পালনের তাগিদও বড় হয়ে দেখা দেয়। এ দেশে বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষ দুই বেলা পেট পুরে খেতে পায় না, অপুষ্টিজনিত রোগব্যাধিতে ভোগে অনেক শিশু। তাদের মাথার ওপর আচ্ছাদন নেই বলে তারা রোদে পোড়ে, বৃষ্টিতে ভেজে। গরম কাপড়ের অভাবে তারা তীব্র শীতে কষ্ট পায়। অন্নহীন, বস্ত্রহীন, বাসস্থানহীন এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দুঃখ-দুর্দশার কথা ভাবা সামথর্যবানদের একান্ত কর্তব্য।
আমাদের অগণিত পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, বিপণনকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীর প্রতি রইল ঈদের শুভেচ্ছা। পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ অমলিন হোক। সবাইকে ঈদ মোবারক।

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles