27.4 C
Dhaka
Monday, June 8, 2026

Technology and Its Impact on Casinos A New Era of Gaming

Technology and Its Impact on Casinos A...

Jakie regulacje prawne dotyczą hazardu w Polsce

Jakie regulacje prawne dotyczą hazardu w Polsce Podstawy...

The future of gambling Trends shaping the next decade in casinos

The future of gambling Trends shaping the...

সখীপুরে ১৫ মাসে ৭২ আত্মহত্যা!

জাতীয়সখীপুরে ১৫ মাসে ৭২ আত্মহত্যা!

প্রেম, অভিমান, পারিবারিক কলহ, মাদক ও মোবাইল আসক্তি এসব আত্মহত্যার মূল কারণ

সাইফুল ইসলাম সা‌নি: টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় গত ১৫ মাসে ৭২ জন নারী-পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। এরমধ্যে অধিকাংশ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ফাঁসিতে ঝুলে। রয়েছে নিজের শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার মত মর্মান্তিক ঘটনাও।

প্রেমঘটিত বিষয়ে বাবা-মায়ের বাধা, মোবাইল ফোনে কথা বলতে নিষেধ করা, অভিমান, বাল্যবিয়ে, পারিবারিক কলহ, মাদকাসক্তি ও মানসিক অবসাদ -এসব আত্মহত্যার মূল কারণ। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আত্মহত্যার এসব কারণ ওঠে এসেছে।

সখীপুর থানা, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও সখীপুর বার্তার অনুসন্ধানে আত্মহত্যার এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২১ সালে ৬২ জন এবং চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ জন আত্মহননের পথ বেছে নেন। তবে উপজেলায় আত্মহত্যার প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলেও ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কম বয়সী তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী ও গৃহবধূরা বেশি আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনার মধ্যে- ২০২১ সালের ১৯ মে কলেজছাত্রী তন্নী আক্তার রুপা ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। প্রেমঘটিত বিষয়ে বাবা-মায়ের বকাবকি করা আত্মহত্যার মূল কারণ বলে জানা যায়। একই বছরের জুন মাসে পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী ফরিদ হোসেনের স্ত্রী আরজিনা (২৮) ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
জুলাই মাসে বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমানে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে শোলাপ্রতিমা শহীদ আবদুর রকীব বীরবিক্রম উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী পারভিন আক্তার শিলা। আত্মহত্যার কারণ মোবাইল কিনে না দেওয়া।
একই মাসের শেষের দিকে প্রবাসী যুবকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতে নিষেধ করায় বোয়ালী ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী শিউলী আক্তার ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।

একই বছরের ৭ আগস্ট উপজেলার হামিদপুর গ্রামের শুভ আহমেদের (১৮) স্ত্রী ঝর্ণা আক্তার (১৬) ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। স্থানীয়রা জানায়, অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ায় তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। স্থানীয়দের দাবি বাল্যবিয়ের বলি হয়েছে ঝর্ণা।

অক্টোবরে ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেন হতেয়া রাজাবাড়ী গ্রামের সাবু মিয়া (৪৭) এবং হামিদপুর গ্রামের কবিরাজ আবদুল লতিফ ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। তাঁরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে পরিবার সূত্র জানায়।

৭ নভেম্বর দিবাগত রাতে অভিমানে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে ঐন্দ্রিলা কর্মকার (১৪) নামের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী। ১৫ নভেম্বর ঘোনার চালা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আশিক আহমেদ (১৩) ফাঁসিতে আত্মহত্যা করে। সে মোবাইল গেমসে আসক্ত ছিলো। মোবাইল ফোন না দেওয়ায় মায়ের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করে। বছরের শেষ দিকে ১৬ ডিসেম্বর ঘাটেশ্বরী গ্রামের শাহজালাল শিকদার (২৩) আত্মহত্যা করেন ফাঁসিতে ঝুলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন বলে পুলিশ জানায়।

২০২২ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলায় আত্মহত্যা করেছেন ১০ জন। ৮ জানুয়ারি বোয়ালী গ্রামের গৃহবধূ সুমা আক্তার (১৯) দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জানুয়ারি মারা যান। প্রথমে গৃহবধূর মা পারভিন আক্তার মামলার হুমকি দিলেও পরে কিছু টাকার বিনিময়ে স্থানীয়ভাবেই বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।
এ ছাড়া নতুন বছরের এই সাড়ে চার মাসে স্বপ্না বেগম (২৮), সুরিয়া বেগম (৫৫), সুজন (১৮), মায়া বেগম (৬৫), জুবান আলী (৫৩), সিঙ্গাপুর প্রবাসী মেহেদী হাসান সজীব (২২), আব্দুস সামাদ খন্দকার (৫৭), গৃহবধূ বিথী আক্তার (২৮) ও স্কুলছাত্রী বর্ষা (১৪) আত্মহত্যা করেছেন। এরা সকলেই ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে গৃহবধূ স্বপ্না ও বিথী প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে অভিমানে এবং স্কুলছাত্রী বর্ষা প্রেমিকার সঙ্গে অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, বেশির ভাগ তরুণ-তরুণী চাওয়া পাওয়ার ব্যত্যয় ঘটলেই আত্মহত্যা করছে। জনবহুল এ উপজেলা আত্মহত্যার দিক দিয়ে টাঙ্গাইলের মধ্যে অন্যতম। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে অকারণেই ছেলে-মেয়েরা বাবা-মা ও স্বামীর সঙ্গে রাগ করে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিচ্ছে। বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগের।

এ বিষয়ে সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, পারিবারিক বন্ধন কমে যাওয়া, অল্প বয়সে হাতে স্মার্টফোন পাওয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অবাধ ব্যবহারের ফলে তরুণ-তরুণীরা প্রেমের ফাঁদে পড়ছে। ফলে একসময় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। আত্মহত্যা রোধে পরিবার ও শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে। বি‌শেষ ক‌রে বয়স‌ন্ধিকা‌লে সন্তা‌নের খোঁজ রাখ‌তে হ‌বে বে‌শি। কোনো ছেলে-মেয়ে যদি আত্মহত্যা করতে চায়, তাঁর কিছু আচরণ দেখলেই বোঝা যায়। যথাসময়ে মনোবিজ্ঞানীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আত্মহত্যা থেকে ফেরানো সম্ভব।

-‌এসবি/ডেস্ক

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles