35.2 C
Dhaka
Tuesday, June 9, 2026

Mastering advanced casino strategies for a confident gaming experience

Mastering advanced casino strategies for a confident...

Einfluss von Glücksspiel auf die psychische Gesundheit Risiken und Chancen

Einfluss von Glücksspiel auf die psychische Gesundheit...

Technology and Its Impact on Casinos A New Era of Gaming

Technology and Its Impact on Casinos A...

সখীপুরে যে কারণে নৌকার ভরাডুবি

জাতীয়সখীপুরে যে কারণে নৌকার ভরাডুবি

সাইফুল ইসলাম সানি: রাজনৈতিকভাবে ১৯৯৬ সাল থেকে সখীপুরে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের জয় জয়কার। প্রার্থীদের কাছে নৌকা প্রতীক যেনো সোনার হরিণ, কোনোভাবে নৌকা পেলেই বিজয় যেনো নিশ্চিত! কিন্তু গত ১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত চার ইউনিয়নের নির্বাচনে হঠাৎ আওয়ামী লীগের চারটি নৌকাই ডুবে গেল! আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের এমন ভরাডুবিতে হতাশ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। দলের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের আভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রার্থী বাছাইয়ে পরীক্ষিত ত্যাগীদের বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দ প্রাধান্য পাওয়ায় নৌকার ভরাডুবির প্রধান কারণ বলে মনে করছেন তাঁরা।

আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের অনৈক্য ও স্বেচ্ছাচারিতায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বড় বদনাম হলো। স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেই দুটি পক্ষ থাকায় নৌকার পরাজয়েও কিছু নেতা বিজয়ের হাসি দিচ্ছেন, আবার নিজেদের প্রার্থীও পরাজিত হওয়ায় মুহূর্তেই সেই হাসি বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের সঙ্গে সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরোধ চলছে। তবে এবার চার ইউপির নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দুইপক্ষের ভাগাভাগিতে একটি সমঝোতার গুঞ্জন রয়েছে। ফলে চার ইউপির দুটিতে পছন্দের প্রার্থী দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম এবং বাকি দুটিতে প্রার্থী পছন্দ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত শিকদার ও সম্পাদক অনুপম শাহজাহান জয়। মনোনয়নের এমন ভাগাভাগিতে বাদ পড়েন দলের পরিক্ষিত ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাকর্মীরা। স্বভাবতই বাদপড়া নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন।

নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রেও বিভক্তির এ চিত্র স্পষ্ট লক্ষ্য করা গেছে। কালিয়া ও হাতেয়া-রাজাবাড়ি ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা কর্মীরা প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। সেখানে দেখা যায়নি সংসদ সদস্যের অনুসারীদের। অন্যদিকে হাতীবান্ধা ও বড়চওনা ইউনিয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুসারীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, কিন্তু সেখানে সচরাচর দেখা যায়নি উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা-কর্মীদের।

নির্বাচন প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ হওয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরাই জয়ী হয়েছেন। এ কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা বলেছেন, মূলত বিদ্রোহীরাই ছিলেন দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ। তাই বিদ্রোহীদের জয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ঠিকই জিতেছে, কিন্তু পরাজয় হয়েছে শুধু নৌকা প্রতীকের। এটি প্রার্থী বাচাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় শীর্ষ নেতাকর্মীদের চরম অযোগ্যতা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য প্রকৌশলী আতাউল মাহমুদ সখীপুর বার্তাকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার পরাজয় হয়েছে খোদ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীদের কাছে। নৌকার প্রার্থীদের এমন পরাজয়ের মূল কারণ ভুল প্রার্থী নির্বাচন। এ ছাড়া তৃণমূল আওয়ামী লীগকে অবমূল্যায়ন ও একাধিক বিদ্রোহী থাকাও পরাজয়ের অন্যতম কারণ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগেরই ফাইট হয়েছে। অন্যকোন দলতো জিতে নাই। স্থানীয় আওয়ামী লীগের দ্বিমুখি-ত্রি-মুখী গ্রুপিং থামানো যায়নি। আওয়ামী লীগের মধ্যাকার অন্তর্দ্বন্দ্ব নিরসন করতে না পারার কারণেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। নৌকা পরাজিত হয়েছে। তবে অন্য কোন দল জায়গা পায়নি।

উল্লেখ্য, ১৭ জুলাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার কালিয়া, বড়চওনা, হাতীবান্ধা, হতেয়া-রাজাবাড়ী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। বিজয়ী হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। বিজয়ীরা হলেন কালিয়া ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী মো. জামাল মিয়া, বড়চওনা ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী আজহারুল ইসলাম, হাতীবান্ধা ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী শাহজাহান খান রবিন, হতেয়া-রাজাবাড়িতে কৃষক শ্রমিক জনতালীগের বিদ্রোহী হুমায়ূন খান।

আওয়ামী লীগ মনোনীত পরাজিতরা হলেন কালিয়া ইউনিয়নে দেলোয়ার হোসেন সাথী, বড়চওনা ইউনিয়নে ইউসুফ আলী ভূঁইয়া হয়েছেন চতুর্থ, হাতীবান্ধা ইউনিয়নে রনি আহমেদ ও হতেয়া-রাজাবাড়ী ইউনিয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন।

বার্তা ডেস্ক:

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles