30.8 C
Dhaka
Tuesday, June 23, 2026

Jämförelsealternativ på Casino Euro: En Djupdykning

Att välja det perfekta online casinot kan...

A Step-by-Step Guide to Vaycasino UK: Your Online Gaming Destination

In the ever-evolving world of online gambling,...

Maximizing Your Betano Welcome Bonus: Practical Tips

When exploring online https://betanocasino-online.com/welcome-bonus/ betting platforms, one...

১৪০ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রাহকের নামে অর্ধ লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ বিল

জাতীয়১৪০ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রাহকের নামে অর্ধ লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ বিল

1448246109_kupibathi10-09-2015

মামুন হায়দার ও সাইফুল ইসলাম সানি : সখীপুরে শতাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহকের মিটার আছে কিন্তু তাদের নামে কোন হিসাব নম্বর নেই। হিসাব নম্বর না থাকায় ওইসব গ্রাহকদের অবৈধ ঘোষণা করে ১৪০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ। গত ২৯ আগস্ট সোমবার এক বিশেষ অভিযানে সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আওতাধীন পার্শ্ববতী ঘাটাইল উপজেলার আটটি গ্রামের ১৪০ জন গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে ওইসব গ্রাহকরা নিজেদের বৈধ গ্রাহক বলে দাবি করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে টাঙ্গাইল জেলার এলেঙ্গা সেন্ট্রাল জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন প্রকল্প সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আওতাধীন পার্শ্ববতী ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের আমতৈল, গারোবাদা, আকন্দের বাইদ, লক্ষীন্দর, মালিরচালা, বেইল্যা, তোলাবর, পাগারিয়া গ্রামের জন্যে ২৫০ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন তিনটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করে। সেখান থেকে ওই আট গ্রামের তিন শতাধিক গ্রাহক নিজেদের বাড়ি, পোল্ট্রি ফার্ম ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেন। কিন্তু এখনও তারা কোনো হিসাব নম্বর পাননি। সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ অনঅনুমোদিতভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তালিকা প্রনয়ণ করে সাগরদিঘী ফিডারের ১৪০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় আট দিন ধরে ওই আটটি  গ্রাম অন্ধকারে রয়েছে।
তবে গ্রাহকরা দাবি করেছেন সখীপুর পিডিবি অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে প্রতি সংযোগে ছয় থেকে সাত হাজার টাকা নিয়ে তাদের মিটার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মিটার পেলেও দীর্ঘদিনেও তারা কোনো বিলের কাগজ পাননি জানিয়ে আকন্দের বাইদ গ্রামের গ্রাহক আবদুস সাত্তার (মিটার নং ৪২২১১৭) ও আবদুল কদ্দুছ (মিটার নং ৪২২১১৮) বলেন, হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় আমরা পোল্ট্রি খামার নিয়ে খুব বিপাকে পড়েছি। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ না পেলে আমরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবো। আবদুস সাত্তারের মিটারের বর্তমান রিডিং ৮৬০৫ ইউনিট। তাঁর নামে ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৪৩ টাকা বিল পাঠানো হয়েছে।
পাগারিয়া গ্রামের অপর বিদ্যুৎ গ্রাহক আলেক শিকদারের মিটার নম্বর ৪৪৩৭৫৬ বর্তমান রিডিং ৬০৩৪  ইউনিট। তাঁর নামেও ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬০০ টাকা। আকন্দের বাইদ গ্রামের অপর বিদ্যুৎ গ্রাহক আবদুল কদ্দুসের মিটার নম্বর ৪২২১১৮, ১৬ মাসে তার মিটারের রিডিং ৩৮২০ ইউনিট। তাঁর নামে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯০০ টাকা বিল পাঠিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগ।
আবদুল কদ্দুস অভিযোগ করেন, প্রায় দেড় বছর আগে খুঁটি ও সংযোগ বাবদ ৩৬ জন গ্রাহকের ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা সখীপুর বিদ্যুৎ অফিসের জিন্নাহ মিয়ার কাছে দিয়েছি। কিন্তু মিটার লাগিয়ে দিলেও সংযোগের বৈধ কোন কাগজপত্র দেয়নি। বারবার কগজপত্র চাইলে দেয় দিচ্ছি করে দেরি করছিল। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ অফিসের যোগ সাজেশেই আমাদের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এখন বেশি বিল পাঠিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এসব বিল পেয়ে আমরা মহা ফাঁপড়ে আছি। এতোদিন বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন ঘুমিয়ে ছিল কেনো?
এ ব্যাপারে জিন্নাহ মিয়ার সঙ্গে জানতে চাইলে তিনি ওইসব গ্রাহকদের কাছ থেকে খুঁটি ও সংযোগ বাবদ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
আমতৈল গ্রামের গ্রাহক ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন (মিটার নং ৪৬০২৫৮) জানান, ‘টাকা দিয়ে সংযোগ আনছি। বিলের কাগজ দিবো দিবো কইয়া দেরি করছে। আহন নাকি আমাগো নামে মামলা হবো। খুব টেনশনে আছি।’
ধলাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেকমত শিকদার বলেন, সংযোগ বিচ্ছিন্নের খবরটি পেয়েছি। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের কারসাজির কারণে ওইসব গ্রাহকরা মামলা ও হয়রানির শিকার হবে এটা মেনে নেওয়া যায়না। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানান তিনি।
সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ খাতকে শৃঙ্খলায়  আনতে এই প্রথম বড় ধরনের একটি অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযানে বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে জড়িত রাঘব বোয়াল কেউ থাকলে বেড়িয়ে আসবে।’
এ ব্যাপারে সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত আলী  বলেন, ‘তাদের সংযোগ আছে, মিটার আছে কিন্তু তাদের নামে কোনো হিসাব নম্বর নেই। এ পর্যন্ত তাঁরা কোনো বিলও পরিশোধ করেনি। হিসাব নম্বর ছাড়াই বিদ্যুৎ ব্যবহার  করায় তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।’ তবে এসব অবৈধ সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কারা জড়িত এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।
এলেঙ্গা সেন্ট্রাল জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রকল্প অনুযায়ী আমরা ওই তিনটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করেছি। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে আমাদের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। তবে সখীপুরে এক শ্রেণির বিদ্যুৎ সংযোগ দালালদের দৌরাত্বের কারণে সাধারণ গ্রাহরা প্রতারিত হচ্ছেন।’
ওই সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ‘সখীপুর বার্তা’র বিশেষ অনুসন্ধান ও সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোন গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে চাইলে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে নির্দিষ্ট পরিমাণ জামানত দিয়ে হিসাব নম্বর গ্রহণ করবেন। তারপর ওই গ্রাহককে তার আবাসিক বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের সংযোগ প্রদান করা হবে। সংযোগ পাওয়ার পরের মাসেই নিজস্ব হিসাব নম্বরে গ্রাহকের নামে বিলের কাগজ পৌঁছবে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সখীপুর ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে চলছে ভিন্ন নিয়ম। এক্ষেত্রে স্থানীয় কিছু বিদ্যুৎ বিভাগের নামধারি দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। ওই দালাল চক্র গ্রাহকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অগ্রিম টাকা নিয়ে প্রথমে বাসা বাড়িতে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মিটার স্থাপন করেন। বৈধ কাগজপত্র অফিসে জমা না দিয়েই ওই মিটারে বিদ্যুতের সংযোগও দিচ্ছেন তারা। মাসের পর মাস হিসাব নম্বর ছাড়াই চলে ওইসব বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে মিটার স্থাপনের পর বছর পেরিয়ে গেলেও গ্রাহকরা বিলের কাগজ হাতে পাচ্ছেন না। এই মিটার স্থাপন ও বিলের কাগজপত্র পাওয়ার মধ্যবর্তী সময়টুকু গ্রাহকরা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারী হিসেবে চিহ্নিত হয়। এ কারণে সাধারণ গ্রাহকরা মামলা ও জরিমানা বিলের শিকার হচ্ছেন। সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আওতাধীন ঘাটাইল উপজেলার ওই ১৪০ জন গ্রাহকের সংযোগও এ রকম কোনো প্রতারণার শিকার বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগ।
তবে বিশিষ্টজনদের কাছে এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে তাঁরা জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সখীপুরসহ এর আশপাশের এলাকাগুলোতে যে অবৈধ পন্থায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে তা বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না।

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles